ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইসলামপুরে বন্যায় রাস্তাঘাট বেহাল

প্রকাশিত : ০২:০৭ পূর্বাহ্ণ, ১৫ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার ৪৫ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক
alokitosakal

চলতি বছর স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক লণ্ডভণ্ড, খানাখন্দে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বন্যায় প্রাথমিক জরিপে এ উপজেলার প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৪০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, প্রায় ১৩০টি ব্রিজ/ কালভার্ট, ২ হাজার মিটার ব্রিজ, ৩টি গ্রুোথ সেন্টার, ১০টি হাটবাজার, চারটি ইউপি ভবন, ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে বড়ো বড়ো খাদ আবার কোথাও কোথাও বড়ো বড়ো পুকুর বা ডোবায় পরিণত হয়ে সড়কপথ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যা-উত্তর উপজেলার সঙ্গে পাথর্শী, কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া, সাপধরী, গাইবান্ধা ও চর পুটিমারী ইউনিয়নে সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চিনাডুলী ইউনিয়নের আমতলী থেকে বলিয়াদহ হয়ে উলিয়া বাজার সড়কটি বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সোনামুখী হয়ে জনতা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০টি স্থানে সড়কটি ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। পাথর্শী ইউনিয়নের মলমগঞ্জ-মোরাদাবাদ, গিলাবাড়ি গুঠাইল বাজার সড়কটি কমপক্ষে ১০টি স্থানে ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মোরাবাদ নৌঘাট হতে কুলকান্দি হার্ট পয়েন্ট এবং জারুলতলা বাজার-কুলকান্দি পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বেনুয়ারচরের বাসিন্দা রুস্তম আলী, আব্দুস সামাদ, ফুলকারচরের বাসিন্দা রমজান আলী, কোলকান্দির বাসিন্দা হারুন অর রশিদ, উলিয়ার বাসিন্দা রবিউল ও ময়না বেগম জানান, বন্যার আগে আমরা পাকা রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতাম। এখন আমাদের হাটবাজারে যাতায়াত করতে হয় কাদার মাঝদিয়ে হেঁটে।

পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল, চিনাডুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম, বেলগাছা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, গাইবান্দা ইউপির চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনসারী বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় সিংহভাগ পাকা রাস্তাসহ কাঁচা রাস্তা ভেঙে পুকুরে পরিণত হয়ে রাস্তাগুলো যেন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ রাস্তা হেঁটে, কাদা মাড়িয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে বলে তারা জানিয়েছেন।

ইসলামপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সালে মো. ইউসুফ শাহী এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, এবছর বন্যায় এ উপজেলার প্রাথমিক জরিপে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৪০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, প্রায় ১৩০টি ব্রিজ/ কালভার্ট, ২ হাজার মিটার ব্রিজ, ৩টি গ্রুোথ সেন্টার, ১০টি হাটবাজার, চারট ইউপি ভবন, ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেক দৃষ্টির কারণে এলাকায় যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলাম। তার অধিকাংশ এবারের বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বর্ণমালা টিভি'কে জানাতে ই-মেইল করুন- bornomalatv@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

বর্ণমালা টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

1

2

3

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। বর্ণমালা টিভি | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: রাইতুল ইসলাম