ঢাকা, শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগে অস্থির মসলার বাজার

প্রকাশিত : ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ৭ আগস্ট ২০১৯ বুধবার ৩৮ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক
alokitosakal

 

আর কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। ঈদ এলেই অস্থির হয়ে উঠে মসলার বাজার। নানা অজুহাতে বাড়ানো হয় দাম। কয়েক সপ্তাহ থেকেই দাম বাড়ছে। কেজিতে ৫০ থেকে ২০০টাকাও বেড়েছে কোনো কোনো মসলার দাম। তবে দাম বাড়ার পেছনে বন্যা,সিন্ডিকেটের কারসাজি, মৌসুমি বিনিয়োগকেই দায়ী করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এই বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করছে ভোক্তারা। এ জন্য বাজার মনিটরিং বাড়ানোর দাবি জানান তারা। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে কেনার কারণেই দাম বাড়াতে বাধ্য হন।

রাজধানীর কারওয়ানবাজার ও মৌলভীবাজার কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, এলাচ এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকা ,বড় এলাচ ১কেজি ৮৮০টাকা, জয়ত্রী ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকা, লবঙ্গ ৮৫০ টাকা, গোল মরিচ ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, গোল মরিচ (কালো) এক কেজি ৪৮০টাকা,জিরা এক কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শাহি জিরা এক কেজি ৮৮০টাকা, তেজপাতা ১৫০ টাকা, কিসমিস এক কেজি ২৯০টাকা, স্টার মসলা এক কেজি ৬৫০টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, দারুচিনি এক কেজি ৪২০টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

দেশি রসুন ১৭০ টাকা, ভারতীয় ১৯০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, পেঁয়াজ দেশি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ভারতীয় ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এই সময় মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই আগের দিনের তুলনায় বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যাংকার মোহাম্মদ মাসুম মিয়া কারওয়ানবাজার এসেছিলেন মসলাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। মসলার কথা জিজ্ঞেস করতেই বলেন, আর কি বলবো ভাই। পুরোই আগুন দাম। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, কোরবানিতে মসলা না কিনে উপায় নেই। তিনি বাজার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।

কারওয়ান বাজারের খুচরা মসলা বিক্রেতা সুরুজ আলী বলেন,আমরা কি করমু,যেমন কিনি,তেমনই তো বেঁচতে হইবো।

তবে মসলার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফেজ মো. এনায়েত উল্লাহ। যা বেড়েছে তাও ‘সামান্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন,নতুন করে কোনো মসলার দাম তেমন বাড়েনি। ঈদুল ফিতরের সময়ই যা বেড়েছে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল আছে। তবে মূল্য বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববাজারে মসলার উৎপাদন সংকট ও বুকিং বৃদ্ধিকেও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে খুচরা বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মৌসুমি বিনিয়োগও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন পাইকারি বিক্রেতারা। অনেকে অন্য ব্যবসা বাদ দিয়ে কোরবানির সময় মসলায় টাকা বিনিয়োগ করেন। তারাও অতিরিক্ত মুনাফা করার জন্য বেশি দাম হাকায়।

আবার, ঈদ উপলক্ষে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি মসলার বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মসলার দাম বেড়েছে কয়েক দফা। চট্টগ্রামেও বাজার ভেদে দাম কম-বেশি হচ্ছে এখানে।

খাতুনগঞ্জে ৮৩০ টাকা কেজির লবঙ্গ রেয়াজউদ্দিন বাজারে ১২০০ টাকায় আর কাজীর দেউড়ি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। ২২০০ টাকা কেজির এলাচ রেয়াজউদ্দিন বাজারে ২৫০০ টাকা। কাজীর দেউড়ি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৮০০-৩০০০ টাকা। গোলমরিচ খাতুনগঞ্জে ৪২০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ৬০০ টাকা। সাদামরিচ খাতুনগঞ্জে ৭০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ১০০০ টাকা। জিরা খাতুনগঞ্জে ৩৪০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজারে ৩৬০ টাকা, কাজীর দেউড়ি বাজারে ৪৫০ টাকা।

ধনিয়া খাতুনগঞ্জে ১০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজারে ১০৫ টাকা, কাজীর দেউড়িতে ১২০ টাকা। জয়ত্রী খাতুনগঞ্জে ২৪০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজারে ২৮০০ টাকা, কাজীর দেউড়িতে ৩০০০ টাকা। জায়ফল খাতুনগঞ্জে ৪২৫ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ৭০০ টাকা। তেজপাতা খাতুনগঞ্জে ৮০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ২০০টাকা। কাবাবচিনি খাতুনগঞ্জে ২৪০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ৩০০০ টাকা কাজীর দেউড়িতে ৩২০০টাকা। শাহীজিরা খাতুনগঞ্জে ৯০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজারে ১৪০০ টাকা, কাজীর দেউড়িতে ১৫০০ টাকা। পোস্তা খাতুনগঞ্জে ১১০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ১৩০০ টাকা। দারুচিনি খাতুনগঞ্জে ৪০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ৪৫০ টাকা।

হলুদ খাতুনগঞ্জে ১০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজারে ১৩০ টাকা, কাজীর দেউড়িতে ১৮০টাকা। আদা খাতুনগঞ্জে ১০০ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ১২০টাকা। পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে ২৩-২৬ টাকা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়িতে ৩৮-৪০ টাকা।

এদিকে,গত রোববার (২৭জুলাই) থেকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে টিসিবি রাজধানীসহ সারাদেশে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রি করছে।

টিসিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, সারাদেশে ১৮৭টি ট্রাকে খোলাবাজারে স্বল্প মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। ঢাকায় ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, বিভাগীয় শহরে পাঁচটি ও জেলা সদরে দুটি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সারাদেশে টিসিবির ২ হাজার ৮২৭ জন ডিলার ও ১০টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি চিনি ৫০ টাকা, মাঝারি আকারের মসুর ডাল ৫০ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বর্ণমালা টিভি'কে জানাতে ই-মেইল করুন- bornomalatv@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

বর্ণমালা টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

1

2

3

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। বর্ণমালা টিভি | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: রাইতুল ইসলাম