ঢাকা, বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন

প্রকাশিত : ০২:০৫ পূর্বাহ্ণ, ১৫ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার ৫৪ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক
alokitosakal

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিতদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গত তিন বছরের ভাঙনে এ ইউনিয়নের তিন ভাগের দুই ভাগ এলাকা তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। তিস্তা গ্রাস করায় ক্রমেই বদলে যাচ্ছে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র।

পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে গত দেড় মাস ধরে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন ঠেকানো যায়নি। এদিকে, নদী তীর রক্ষাবাঁধ থেকে মাটি কেটে জিও ব্যাগ ভরানোর অভিযোগ উঠেছে পাউবোর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ফলে সেই এলাকা দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও বাঁধের ৫০ ফুট কাছ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন কতটুকু পরিবেশবান্ধব তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সরজমিনে ভাঙনকবলিত চতুরা ও কালিরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশে বেশ কয়েকটি বাড়ি পড়ে আছে। কালিরহাট এলাকার বৃদ্ধা সোহাগী বেওয়া (৮৫) জানান, ‘বাপ-মায়ে আদর করি নাম রাখছিল সোহাগী। স্বামীও চলি গেল, সেইসাথে সোহাগ-সুখও কাড়ি নিল তিস্তা নদী।’ নারায়ণ চন্দ্র বর্মন (৭০) বললেন, ‘২০ বার বাড়ি ভাঙছি। হামরা এ্যালা নিঃস্ব হয়া গেছি। হামরা পথের ভিখারি হয়া গেছি। সরকার হামারগুলার জন্য থাকবার জাগা করি দেউক।’

বিদ্যানন্দ বাজার, তৈয়ব খাঁ, ডাংরা, ডাবুরহালান, ডারিয়া, হংসধর, কালিরভিটাসহ সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙছে তিস্তা নদী। গত এক সপ্তাহে ভেঙে গেছে চতুরার মনতাজ আলী, আমজাদ আলী, হাফিজুর রহমান, আলী মণ্ডল, মমতাজ, আইজুল ও জমির হোসেনের বাড়ি। হংসধর বাঁধের মাথা ও কালিরহাট এলাকার মকবুল, ইয়াকুব মিস্ত্রী, দীনবন্ধু রায়, নিপেন চন্দ্র রায়, সামাল চন্দ্র রায়, সুরেশ চন্দ্র রায়, সুধীর চন্দ্র রায়, নারায়ণ চন্দ্র রায়, প্রদীপ চন্দ্র রায়, সুকুমার চন্দ্র রায়, বাণেশ্বর চন্দ্র রায়, উপেন চন্দ্র রায়, লক্ষ্মীকান্ত চন্দ্র রায়, নিবাস চন্দ্র রায়, নিবারণ চন্দ্র রায়, সুবাস চন্দ্র রায়, সঞ্জয় চন্দ্র রায়, জয়ন্তী রায়, রঙমালা, সুবল, প্রফুল্ল, যতীশ, নবীন চন্দ্র রায়সহ আরো অনেকের বসতভিটা বিলীন হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত শ্রমিকরা বাঁধ নষ্ট করে মাটি কেটে জিও ব্যাগে ভরাচ্ছে। এখন এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকরা জানান, বাঁধ থেকে মাটি কেটে জিও ব্যাগ ভরাচ্ছি। আবার ড্রেজার দিয়ে সেটা পূরণ করছি। বাঁধ থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরেই বসানো হয়েছে ড্রেজার। তাই দিয়েই মাটি পূরণের কথা জানালেন তারা।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, গত এক দশকে আমার ইউনিয়নের এক চতুর্থাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আগে ভোটার ছিল ২৯ হাজার এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজারে। ১১টি মৌজার মধ্যে ৭টি মৌজা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ১২ হাজার ভোটার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। আমরা সরকারের কাছে এই এলাকার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী কাজ চাই।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের লোকজন কালিরহাট এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ করছে। কেউ বাঁধ কেটে মাটি ভরার কাজ করে থাকলে সেটা আমাদের জানা নেই। আমরা চর থেকে নৌকায় বালু এনে কাজ করছি। আর ড্রেজারের কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, ভাঙনকবলিতদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার কাজ করছে। আমরা ফিজিবিলিটি দেখে স্থায়ীভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বর্ণমালা টিভি'কে জানাতে ই-মেইল করুন- bornomalatv@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

বর্ণমালা টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

1

2

3

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। বর্ণমালা টিভি | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: রাইতুল ইসলাম