ঢাকা, বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-হাতিয়া নৌ-সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে নতুন জাহাজ

প্রকাশিত : ০২:০৫ পূর্বাহ্ণ, ১৫ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১৫ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক
alokitosakal

লোকসানের মধ্যেও চালু রয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া স্টিমার সার্ভিস। বছরের পর বছর লোকসানে চলছে এই নৌ-সার্ভিস। বিআইডব্লিউটিসির নৌ-সার্ভিসে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন একেবারে কমে গেছে। তারপরও লোকসানি এই সার্ভিসে বিপুল অর্থ ব্যয়ে আরো নতুন দুটি জাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সার্ভিসে চলাচলরত তিনটি জাহাজই মেয়াদোত্তীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, লোকসান হলেও সরকার জনস্বার্থে এই সার্ভিস চালু রাখতে চাচ্ছে। দ্রুত সার্ভিস দিতে চলতি বছরে নতুন আরো দুটি জাহাজ বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। জাহাজগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। এক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল পর্যন্ত স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ নৌপথে চট্টগ্রামে যাতায়াত করতেন। সার্ভিস তখন লাভজনক ছিল। তখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এতো উন্নত ছিল না। ২০১১ সালে চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে বন্ধ হয়ে যায় এ সার্ভিস। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া পর্যন্ত সার্ভিস চালু রয়েছে। তবে এ সার্ভিসে মিলছে না পর্যাপ্ত যাত্রী। বর্তমানে প্রতি যাত্রায় গড়ে ১০০ জনের মতো যাত্রী পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া, নেই পণ্য পরিবহনের সুবিধা। হাতিয়ার অধিকাংশ যাত্রী চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে বোটে যাতায়াত করছে। ফলে চট্টগ্রাম-হাতিয়া স্টিমার সার্ভিসে প্রতি বছরই লোকসান হচ্ছে। আয় কমে গেলেও জাহাজ চলাচলে জ্বালানি খরচ ও অন্যান্য জনবল নিয়োজিত রয়েছে।

জানা যায়, বহরে বর্তমানে তিনটি জাহাজ চালু রয়েছে। জাহাজগুলো হচ্ছে:এমভি আবদুল মতিন, এমভি মনিরুল হক ও এমভি বার আউলিয়া। জাহাজগুলো ৫০/৬০ বছরের পুরোনো। এরই মধ্যে বিপুল অর্থ খরচ করে জাহাজগুলো কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় সময় জাহাজগুলোতে মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে ভোগান্তি বাড়ে যাত্রীদের। নাব্য কমে যাওয়ায় নৌপথের চ্যানেল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে সপ্তাহে দুই দিন সার্ভিস চালু রয়েছে। সোমবার ও বৃহস্পতিবার যাত্রী পরিবহন করা হয়। আর একটি জাহাজ সীতাকুন্ডের কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া পর্যন্ত চলাচল করে। বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (যাত্রী) ফয়সাল আলম চৌধুরী বলেন, লোকসান হলেও জনস্বার্থে সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। চ্যানেলে নাব্য কমে যাওয়ায় সাগর দিয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে সন্দ্বীপে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সাত/আট ঘন্টা সময় লাগছে। প্রতি যাত্রায় ১০০ জনের বেশি যাত্রী হচ্ছে না। পণ্য পরিবহনও কমে গেছে।’

চট্টগ্রাম থেকে স্টিমার সার্ভিস যাত্রীদের কাছে গুরুত্ব হারাচ্ছে। যাত্রীরা কম সময়ে বিভিন্নভাবে যাতায়াত করছে। কিন্তু ব্যাপক লোকসানের মুখেও বহরে নতুন করে জাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে। নতুন জাহাজ দুটি চট্টগ্রামে ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ডিজিএম গোপাল চন্দ্র মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, লোকসান হলেও দ্বীপ এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য স্টিমার সার্ভিস চালু রাখতে হচ্ছে। নতুন জাহাজ দুটি নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে জাহাজ দুটি। তখন বরিশাল পর্যন্ত সার্ভিস চালু করা হবে। যাত্রীরা কম সময়ে পৌঁছাতে পারবেন।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি বর্ণমালা টিভি'কে জানাতে ই-মেইল করুন- bornomalatv@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

বর্ণমালা টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

1

2

3

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। বর্ণমালা টিভি | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: রাইতুল ইসলাম